অপরাধ কী? অপরাধ ও বিচ্যুতির মধ্যকার পার্থক্য আলোচলা।

অপরাধ কী? অপরাধ ও বিচ্যুতির মধ্যে পার্থক্য | সমাজবিজ্ঞান বিশ্লেষণ

অপরাধ

অপরাধ বা কসুর (ইংরেজি: Crime, Misdemeanor, Felony) হচ্ছে কোনো ব্যক্তি কর্তৃক আইনবিরোধী কাজ। সাধারণত কোনো দেশ বা অঞ্চলের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার্ধে প্রণীত আইনের পরিপন্থী কার্যকলাপ অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়।

অপরাধ কী? অপরাধ ও বিচ্যুতির মধ্যকার পার্থক্য আলোচলা কর?
অপরাধ ও বিচ্যুতি 


অপরাধের সংজ্ঞা:-

সাধারণভাবে, 
যেসকল কার্যকলাপ আইন, নীতি ও নৈতিকতার বিরুদ্ধে গিয়ে সমাজে ক্ষতি বা অশান্তি সৃষ্টি করে তাই অপরাধ হিসেবে পরিগণিত হয়।

অপরাধের আইনগত সংজ্ঞা, 
অপরাধ হলো রাষ্ট্রের আইনের বিরুদ্ধে সংগঠিত সেই কাজ যার জন্য শাস্তি নির্ধারিত আছে।

সমাজবিজ্ঞানী এলিম দুর্খেইমের মতে,
 
অপরাধ হলো এমন কাজ যা সমাজের প্রচলিত নৈতিক মানদন্ড ও সমষ্টিগত চেতনার বিরুদ্ধে যায়।

সাদারল্যান্ডের মতে, 
অপরাধ হলো এমন আচারণ যা অপরাধ আইন ভঙ্গ করে এবং যার জন্য অপরাধিকে রাষ্ট্র দন্ড প্রদান করে।


পরিশেষে, অপরাধ হলো এমন কোনো কাজ বা আচারণ, যা আইন দ্বারা নিষিদ্ধ এবং যা করলে রাষ্ট্র বা সমাজের স্বীকৃত নিয়ম লঙ্ঘিত হয়। অপরাধের মাধ্যমে ব্যাক্তি বা গোষ্ঠির অধিকার ক্ষুণ্ন হয় এবং সমাজে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিঘ্নত হয়।


অপরাধ ও বিচ্যুতি

অপরাধ ও বিচ্যুতি দুটি সমাজবিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ ধারণা, তবে তারা একে অপরের থেকে আলাদা। অপরাধ হলো আইনবিরোধী কর্মকান্ড, যা আইনগত শাস্তিযোগ্য। অন্যদিকে, বিচ্যুতি হলো সমাজের স্বাভাবিক আচরণ এবং নৈতিক মানদন্ডের ব্যতিক্রম যা সামাজিকভাবে অসঙ্গত বলে বিবেচিত। নিচে বিস্তারিতভাবে অপরাধ ও বিচ্যুতির মধ্যকার পার্থক্য তুলে ধরা হল।

অপরাধের সংজ্ঞা: অপরাধ হলো এমন কার্যকলাপ যা আইন লঙ্ঘন করে এবং শাস্তিযোগ্য কর্মকাণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়। 

অপরাধের বৈশিষ্ট্য—
১। অপরাধ হলো আইনের বিরুদ্ধে কাজ করা।
২। অপরাধের জন্য নির্দিষ্ট শাস্তি রয়েছে যা আদালতের মাধ্যমে প্রয়োগ করা হয়।
৩। অপরাধের কারণে সাধারণত ব্যক্তি বা সমাজের ক্ষতি সাধন হয়।
৪। অপরাধের বিরুদ্ধে সমাজের প্রতিষ্ঠাননিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো কাজ করে ( যেমন: পুলিশ, আদালত ইত্যাদি)। 

বিচ্যুতির সংজ্ঞা: বিচ্যুতি হলো সামাজিক আদর্শ বা নিয়ম-কানুন থেকে বিচ্যুত হওয়া। সমাজে প্রতিটি মানুষের নির্দিষ্ট কিছু আচরণ ও মূল্যবোধ মানার আশা করা হয়। যখন কেই সেই সামাজিক নিয়মগুলির ব্যতিক্রম করে তখন তা বিচ্যুতি হিসেবে বিবেচিত হয়।

বিচ্যুতির বৈশিষ্ট্য—
১। বিচ্যুতি হলো সামাজিক নিয়ম-কানুন বা আদর্শের  থেকে আলাদা আচরণ।
২। এটা অপরাধ নাও হতে পারে, তবে সমাজে অসম্পূর্ণ বা অস্বাভাবিক হিসেবে বিবেচিত।
৩। বিচ্যুতি সাধারণত সামাজিক প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত করা হয়।
৪। সমাজের মানদণ্ড বা সংস্কৃতির উপর নির্ভর করে বিচ্যুতির সংজ্ঞা ভিন্ন হতে পারে।

অপরাধ ও বিচ্যুতির মধ্যে পার্থক্য—

আইনের প্রভাব: অপরাধ সরাসরি আইন লঙ্ঘনের মাধ্যমে ঘটে, এবং এর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কিন্তু বিচ্যুতি সামাজিক মানদণ্ড বা আচরণ থেকে আলাদা হলেও তা সবসময় আইন লঙ্ঘন করে না। তবে বিচ্যুতির জন্য আইনি শাস্তি না থাকলেও সামাজিক শাস্তি বা অবজ্ঞা থাকতে পারে।

শাস্তির ধরণ: অপরাধের জন্য আইনগতভাবে নির্দিষ্ট শাস্তি রয়েছে, যেমন জরিমানা, কারাদণ্ড ইত্যাদি। তবে বিচ্যুতির ক্ষেত্রে সমাজ বা গোষ্ঠী থেকে  অবজ্ঞা, সমালোচনা বা সামাজিকভাবে বর্জন হতে পারে।

সমাজের প্রতিক্রিয়া: অপরাধের জন্য সমাজে কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কারণ তা আইন লঙ্ঘন করে এবং সমাজে শান্তি বিঘ্নিত করে। এ দিকে বিচ্যুতি সাধারণত সমাজের স্বাভাবিক আদর্শের ব্যতিক্রম হলেও এটি অপরাধের তুলনায় কম কঠোরতার সাথে গ্রহণ করা হয়।

আইনি সংজ্ঞা বনাম সামাজিক সংজ্ঞা: অপরাধ আইন দ্বারা সংজ্ঞায়িত করা হয়। এর জন্য নির্দিষ্ট বিধিবদ্ধ নিয়ম থাকে। অপরদিকে, বিচ্যুতি সামাজিক নিয়ম বা মূল্যবোধ দ্বার নির্ধারিত হয়, এবং সমাজের সাথে সামঞ্জস্য না হলে তা বিচ্যুতি হিসেবে গণ্য করা হয়।

সর্বশেষে, অপরাধ ও বিচ্যুতি উভয়ই সামাজিক নিয়ম ও আদর্শ থেকে ব্যতিক্রমকে নির্দেশ করে। তবে এদের মধ্য মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। অপরাধ আইনের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং শাস্তিযোগ্য। যেখানে বিচ্যুতি হলো সামাজিকভাবে অস্বাভাবিক আচরণ, যা আইনি শাস্তির আওতায় নাও পরতে পারে। তবে সমাজে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে উভয় ক্ষেত্রেই সচেতনতা এবং নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন